Azan tv

হাদিস শাস্ত্রের মহান সাধক যারা

হাদিস শাস্ত্রের মহান সাধক যারা

পবিত্র কোরআনে কারিম এবং হজরত রাসূলু্ল্লাহ (সা.)-এর হাদিস মুমিনদের জীবনাচারের পাথেয় হিসেবে বিবেচিত। প্রিয় নবী (সা.) বিদায় হজের ভাষণে মুসলমানদের এ দুই মাধ্যমকে আঁকড়ে ধরে চীবন পরিচালনার কথা বলে গেছেন।

আমরা জানি, তিনটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যমে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিসসমূহ আমাদের কাছে পৌঁছেছে। 

এক. লিখিত আকার,
দুই. স্মৃতিতে ধরে রাখার মাধ্যম ও 
তিন. পঠন-পাঠনের মাধ্যম। 

হাদিস সংগ্রহ, বিন্যাস ও পুস্তকাকারে সংকলনের পূর্বে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে যেসব মহান ব্যক্তিত্ব সে সময় হাদিস সংগ্রাহক, সংকলক ও মুখস্থকারী হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেন তাদের অন্যতম হলেন—

১. হজরত আবু হুরায়রা (রা., মূল নাম আবদুর রহমান)। ৭৮ বছর বয়সে ৫৯ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। তার সূত্রে বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা ৫৩৭৪টি। তার ছাত্র সংখ্যা ৮০০ জনের বেশি বলে মনে করা হয়। 

২. হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)। ৭১ বছর বয়সে ৬৮ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। তার সূত্রে বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা ১৬৬০টি।

৩. হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.)। ৬৭ বছর বয়সে ৫৮ হিজরিতে তিনি ইন্তেকাল করেন। তার সূত্রে বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা ২২১০টি। 

৪. হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.)। ৭৪ বছর বয়সে ৭৩ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। তার সূত্রে বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা ১৬৩০টি।

৫. হজরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.)। ৯৪ বছর বয়সে ৭৮ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন তিনি। তার সূত্রে বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা ১৫৬০টি। 

৬. হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.)। তিনি নবী করিম (সা.)-এর খাদেম ছিলেন বলে তাকে খাদেমুন্নবী বলে ডাকা হয়। ১০৩ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। তার সূত্রে বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা ১২৮৬টি। 

৭. হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.)। ৮৪ বছর বয়সে ৭৪ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। তার সূত্রে বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা ১১৭০টি। 

উপরোল্লেখিত সাহাবি ছাড়াও হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (মৃ. ৬৩ হিজরি), হজরত আলী (মৃ. ৪০ হিজরি) এবং হজরত উমর ফারুক (মৃ. ২৩ হিজরি) সহ অনেক সাহাবির সূত্রে বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা ৫০০ থেকে এক হাজারের মধ্যে। 

অনুরূপভাবে হজরত আবু বকর (মৃ. ১৩ হিজরি), হজরত উসমান (মৃ. ৩৬ হিজরি), হজরত উম্মে সালমা (মৃ. ৫৯ হিজরি), হজরত আবু মূসা আশআরি (মৃ. ৫২ হিজরি), হজরত আবু যর গিফারি (মৃ. ৩২ হিজরি), হজরত আবু আইয়ুব আনসারি (মৃ. ৫১ হিজরি) থেকে একশতের অধিক এবং পাঁচশতের কম হাদিস বর্ণিত আছে। 

শেষ নবী হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস সাড়ে ১৪শ’ বছর পরও আমাদের মাঝে আলোকবিস্তার করছে এসব মহান হাদিস সংরক্ষকদের কারণে। তাদের কাছ থেকে যারা হাদিস সংগ্রহ করেছেন তাদের ভূমিকাও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এসব মহান ব্যক্তি জ্ঞান-বিজ্ঞান, হিকমত ও হেদায়েতের অন্যতম উৎস হাদিসে রাসূলকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য যে মেহনত করেছেন তা অতুলনীয়। ইতিহাসের পাতায় তারা অমর হয়ে আছেন।