Azan tv

ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসে কোরআন সংরক্ষণ ও তেলাওয়াতে বাধা নেই

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত সর্বোত্তম নফল ইবাদত। কোরআন তেলাওয়াতে প্রতিটি হরফের জন্য রয়েছে ১০টি করে নেকি। হাদিসে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) কোরআন তেলাওয়াত করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে বর্ণিত এক হাদিসে হজরত রাসূলুল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘তোমরা কোরআন মজিদ তেলাওয়াত করো। কেননা কিয়ামতের দিন কোরআন তার পাঠকের জন্য সুপারিশকারী হবে।’ –সহিহ মুসলিম

এমন আরও অনেক হাদিস থেকে কোরআন তেলাওয়াতের গুরুত্ব আনুধাবন করা যায়। তবে কোরআন স্পর্শ করা ও পড়ার জন্য কিছু বিশেষ আদব রক্ষা করা প্রয়োজন। ইসলামি শরিয়ত মতে পবিত্রতা ছাড়া কোরআন শরিফ স্পর্শ করা যায় না। ইসলামের এই নির্দেশনা থেকে বুঝা যায়, এখানে পবিত্রতা বলতে অজু, ক্ষেত্রবিশেষে গোসল ও তায়াম্মুমের কথা বলা হয়েছে।

এখন প্রশ্ন হলো, অনেকেই কম্পিউটার, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য স্মার্ট ডিভাইসে কোরআন সংরক্ষণ করে কোরআন তেলাওয়াতের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এক্ষেত্রে পবিত্রতার বিষয়টি মেনে চলা সম্ভব হচ্ছে না বা প্রয়োজন মনে করছেন না। এখান থেকে যে স্বাভাবিকভাবে যে প্রশ্নটি সামনে আসে তা হলো- মোবাইল ফোনে বা কম্পিউটারে কোরআন পড়া কি অনুমোদিত? অনুমোদিত হলেও সেক্ষেত্রে কী পবিত্র অবস্থা বাধ্যতামূলক?

আলোচিত প্রশ্নের উত্তর হলো- হ্যাঁ, যাবতীয় ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস তথা মোবাইল, কম্পিউটারে কোরআন সংরক্ষণ করা ও সেখান থেকে প্রয়োজন এবং ইচ্ছামতো তেলাওয়াত করা যাবে।

এর পরে যে প্রশ্নটি আসে তা হলো- অজু ব্যাতিত কি (ডিভাইস) স্পর্শ করা ও পড়া যাবে? এর উত্তরে বলা যায়, স্মৃতি থেকে (মুখস্থ) কোরআন তেলাওয়াতের জন্য অজু আবশ্যক নয়। তবে মুসহাফ (কোরআনের প্রিন্ট কপি) স্পর্শ করার জন্য অজু শর্ত। কিন্তু ডিজিটাল ডিভাইসে রাখা কোরআনকে ইসলামিক স্কলাররা মুসহাফ নয় বলে মত দিয়েছেন। যেহেতু এগুলো মুসহাফ নয়- সেহেতু অজু ও অন্যান্য বিধান এর জন্য প্রযোজ্য হবে না।

কোরআনে কারিমের সফটওয়্যার আছে, এমন মোবাইল পকেটে রাখা ও পকেটে নিয়ে বসা সম্পর্কেও অনেক নানা সতর্কতা অবলম্বন করতে দেখা যায়। এখানেও একই কথা যেহেতু এটা মুসহাফ নয়- তাই কোরআন সফটওয়্যার সম্বলিত মোবাইল পকেটে রাখতে কোনো সমস্যা নেই। ক্ষেত্রবিশেষ ছিঁড়ে যাওয়া বা কোনো ধরনের অপব্যবহার কিংবা অমর্যদা হওয়ার আশঙ্কা না থাকলে মুসহাফও প্যান্টের পকেটে রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পেছনের পকেটে নিয়ে বসা, যাতে প্রকারান্তরে মুসহাফের ওপর বসা হয় সেটা অনুমোদিত নয় বরং এটা মাকরূহ।

সাধারণ আদব হচ্ছে, কোরআন শরিফের ওপর কোরআন শরিফ ছাড়া অন্য কোনো বস্তু এমনকি অন্য কোনো ধর্মীয় বইও না রাখা। সবশেষে যে প্রশ্নটি বাকি থাকে তা হলো- কোরআনে কারিমের সফটওয়্যার সংরক্ষিত আছে এমন মোবাইল নিয়ে বাথরুমে যাওয়ার বিষয়টি।

বাথরুমে মুসহাফ নিয়ে যাওয়ার অনুমতি নেই। অবশ্য যদি এ ছাড়া অন্য কোনো উপায় না থাকে বা চুরি হওয়ার ভয় থাকে কিংবা বিশেষ প্রয়োজনে সঙ্গে রাখা যেতে পারে। কিন্তু মোবাইল যেহেতু মুসহাফ সমতুল্য নয়- তাই মোবাইল নিয়ে বাথরুমে যাওয়া যাবে।  তবে সেখানে গিয়ে কোরআন এপ্লিকেশন অন করা উচিত হবে না এবং কোনো অবস্থাতেই বাথরুমে গিয়ে কোরআন তেলাওয়াত করা যাবে না। কারণ বাথরুম একটি অপবিত্র জায়গা। পক্ষান্তরে কোরআন তেলাওয়াত একটি ইবাদত। আর হাদিসে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) কবর এবং গোসলখানাকে ইবাদতের স্থান বানাতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন।

এখানে উল্লিখিত মাসয়ালার বেশিরভাগ এই কিয়াসের ওপর নির্ভরশীল যে, ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসে রাখা কোরআন মুসহাফ নয়। তাই এর পেছনের কারণটা উল্লেখ করা প্রয়োজন। এর কারণ হলো- ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসের কোরআনের বর্ণ আর মুসহাফের বর্ণের প্রকৃতি এক রকম নয়। পড়ার সময় এর অক্ষরগুলো যেভাবে প্রদর্শিত হয় তা তার স্থায়ী রূপ নয়। এখানে তথ্যগুলো ভিন্ন একটা অবস্থায় (ডাটা হিসেবে) সংরক্ষিত থাকে। যখন প্রয়োজন  হয়, তখনি কেবল তা অস্থায়ীভাবে আরবি অক্ষরের রূপ নেয় এবং আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়।

আর অজু প্রসঙ্গে বলা যায়, ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসে কোরআন তেলাওয়াতের ক্ষেত্রে পবিত্রতা বাধ্যতামূলক নয়। তবে যদি সম্ভব হয় কোরআন তেলাওয়াতের সময় অজু করে নেওয়া ভালো। কারণ আল্লাহর বাণী তেলাওয়াতের সময় অজু সহকারে তেলাওয়াত করা সম্মান প্রদর্শনের অংশ বিশেষ। আর সর্বদা অজু অবস্থায় থাকার অালাদা ফজিলতও রয়েছে।