Azan tv

জ্ঞানার্জনকে গুরুত্ব দিয়েছে ইসলাম

জ্ঞানার্জনকে গুরুত্ব দিয়েছে ইসলাম

মহান প্রতিপালক পবিত্র কোরআনের সর্বপ্রথম নাজিলকৃত পাঁচটি আয়াতের চারটিই পড়াশোনা ও শিক্ষাবিষয়ক। যেমন আল্লাহ বলেছেন, 'পাঠ কর তোমার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। যিনি মানুষকে জমাটবাঁধা রক্ত থেকে সৃষ্টি করেছেন। পাঠ কর, আর তোমার প্রতিপালক মহিমান্বিত। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন যা সে জানত না' (সূরা আলাক : ১-৫)। আমরা জানি, আমাদের প্রিয় নবী জ্ঞানার্জনের প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে ঘোষণা করেছেন, 'বিদ্যা অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর ওপর ফরজ' (বায়হাকী)। জ্ঞানের বদৌলতেই মানুষ 'আশরাফুল মাখলুকাত' হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। আলোকিত জীবন গঠনে মানবজাতিকে জ্ঞানার্জনে উদ্বুদ্ধ করে আল্লাহতায়ালা বলেছেন, 'বল! যারা জানে এবং যারা জানে না তা কি সমান?' বই মানুষের জ্ঞানের চক্ষুকে উন্মোচিত করে অনেক দূর নিয়ে যেতে পারে। জ্ঞানভাণ্ডারের খনি হচ্ছে বই। বইয়ের সঙ্গে যার মিতালী হয় সে মূলত একজন শ্রেষ্ঠতম বন্ধুর সাক্ষাৎ পায়। নিজেকে জানতে, সমাজকে বুঝতে, সভ্যতায় অবদান রাখতে বইয়ের কোনো বিকল্প নেই। জ্ঞানী লোকেরা বইকে অতীত ও বর্তমানের সাঁকো হিসেবে বিবেচনা করেছেন। গত কয়েক হাজার বছরের মানুষের জ্ঞান, অনুভব, স্বপ্ন আর অভিজ্ঞতার ভাণ্ডারকে বই তার পৃষ্ঠায় ধারণ করে আছে- তা সেই বই পাথরের ফলকেই দেখা হোক বা গাছের পাতাতেই হোক, কাগজের পৃষ্ঠাতেই হোক বা কম্পিউটারের পর্দাতেই হোক। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষদের আত্দার আলো এর ভেতর জ্বলছে। যে জাতি এই আলোকে যত বেশি আত্দস্থ করেছে, সে জাতি তত এগিয়ে যাচ্ছে। আজ এ কথা তো প্রমাণিত যে, পৃথিবীতে যে জাতির ভেতর পাঠক যত বেশি, সে জাতি তত উপরে। কাজেই আমাদেরও যদি উপরে উঠতে হয় তবে আমাদের ভেতর বই পড়ার সংস্কৃতিকে আরও গভীর, ব্যাপক ও সর্বত্রগামী করা দরকার।' জ্ঞানের অবলম্বন বই ছাড়া আর কিছুই নয়। আর কিছু হতে পারে না।